কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৭:০৩

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়ে আসছে। তবে এ ব্যবস্থায় আসছে নতুন পরিবর্তন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে।

ফলে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আরও একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের রূপান্তর আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে একটি পৃথক অধ্যায় সংযোজন করা হচ্ছে। নতুন এই অধ্যায় আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি বই। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ এবং ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি নতুন বই সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিটিবি’র সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, চতুর্থ শ্রেণির বইগুলো হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি বই যুক্ত হচ্ছে একটি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অন্যটি ‘কারিগরি শিক্ষা’। তবে পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া নতুন চারটি বই যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি, জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একইসঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম