প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় ছুটে এসেছেন এক চীনা নাগরিক। তার উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় মানুষটাকে বিয়ে করার। তবে সেই প্রিয়তমার বয়স কম হওয়ায় (১৬ বছর) খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। যাওয়ার আগে জানিয়েছেন, তিনি প্রিয়তমার জন্য দেড় বছর অপেক্ষা করবেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বিয়ে না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন হাইশান। এর আগে বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ওই চীনা যুবকের নাম এম এ হাইশান (৩৯)।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনেরা তাকে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর বিথির (ছদ্মনাম) সঙ্গে চীনের যুবক হাইশানের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার একপর্যায়ে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। মূলত সেই প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে বুধবার সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হাইশান। তাকে রিসিভ করে কুমারখালী নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বিথি ও তার পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশে তিনি কুমারখালী ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়ের মা জানান, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি বলেছে। গতকাল সে বাংলাদেশে এসেছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে দেব না।
এ বিষয়ে চীনা যুবক এম এ হাইশান মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রান্সলেট করে বলেন, আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেম। এসেছিলাম বিয়ে করে দেশে ফিরবো। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়েটা হচ্ছে না। তবে আমি দেড়বছর অপেক্ষা করবো আমার প্রিয়তমার জন্য।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, শুনেছি চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছে। তিনি বর্তমানে তার দেশে ফেরত গেছেন। আমরা সব সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আসলে পরিবার বুঝতে পেরেছে তাদের মেয়ের বয়স কম। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের পক্ষে কোনো অনুমতি দেইনি।

প্রেমিকার টানে কুড়িগ্রামে চীনা নাগরিক