আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও হেলিকপ্টার ভ্রমণে নতুন করের প্রস্তাব

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০৬

আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা নিবন্ধন, লাইসেন্স ইস্যু কিংবা নবায়নের ক্ষেত্রে এখন থেকে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে আবেদনকারীদের। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে পেশ করা এই বাজেটে পিস্তল ও রিভলবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক এক লাখ টাকা এবং বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থবিলে আয়কর আইনে নতুন ধারা সংযুক্তির মাধ্যমে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ-চালানের মাধ্যমে এই অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করবে। এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেলের লাইসেন্স পেতে আবেদনের আগের তিন করবছরে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা এবং শটগানের ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা আয়কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছিল।

এছাড়াও অস্ত্রভেদে লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি বাবদ ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা প্রদানের নিয়ম পূর্ব থেকেই কার্যকর রয়েছে। পুলিশ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টার ব্যবহারকেও আরও ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে হেলিকপ্টার বা চপার নিবন্ধন ও বার্ষিক ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষকে প্রতি বছর ১০ লাখ টাকা করে অগ্রিম কর দিতে হবে। এই কর পরিশোধের এ-চালান কপি দাখিল না করলে বেসামরিক আকাশযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করা হবে না বলেও অর্থবিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত এই নতুন করের আওতা থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি কূটনীতিক, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। বাজেটের এই সিদ্ধান্তগুলো পাস হলে তা চলতি অর্থবছরের নতুন কর কাঠামো হিসেবে কার্যকর হবে।

ইত্তেফাক/এএম