বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে তৃতীয় ভাষা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৪:০০

নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। এখন থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো যেকোনো একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিশেষ ঘোষণার কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রমকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে নতুন কারিকুলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।

নতুন এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভাষা শিখতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষায় ঋণ সুবিধা: তৃতীয় ভাষাজ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবে। ইউনিফর্ম ও উপকরণ: দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষার প্রসারে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই নতুন শিক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা বা গবেষক হিসেবে দেশ ও বিদেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এছাড়া নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমও চলমান থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ইত্তেফাক/এএম