বিশ্বে প্রথমবার ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৩:১২

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের অংশ হিসেবে শেয়ারপ্রতি ১৩৫ ডলার মূল্য নির্ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই পদক্ষেপটি এমন এক শেয়ার বাজারে আসার পথ তৈরি করেছে, যার সম্ভাব্য আকার প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আর্থিক চাপ ও সীমিত বিক্রির মধ্যেও বড় এই উদ্যোগ নিচ্ছে।

ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের সাম্প্রতিক তালিকা বলছে, ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। এর পাশাপাশি তার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় নির্ধারিত কিছু লক্ষ্য পূরণ হলে তিনি ইতিহাসের এক ট্রিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজও পেতে পারেন।

স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইলন মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে তিনি সেই মর্যাদা পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে তার মোট সম্পদ কীভাবে হিসাব করা হচ্ছে তার ওপর।

স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইলন মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে কিছু শেয়ার ভবিষ্যতে অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্ভর করছে মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো লক্ষ্য পূরণের ওপর। বৃহস্পতিবারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তার শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। 

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বড় অংশের মালিক ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের সঙ্গে মিলিয়ে এই দুই কোম্পানির শেয়ারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ওয়াশিংটন পোস্টের গণনা অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ ফাইলিং বা নথিপত্রের ভিত্তিতে স্পেসএক্স ও টেসলায় তার মোট শেয়ারের মূল্য প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার।

তবে মাস্ককে ঘিরে প্রায় সব কিছুর মতোই তার ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদার ক্ষেত্রেও কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। 

ইলন মাস্ককে স্পেসএক্স বিপুল শেয়ার দিয়েছে, তবে তা কার্যকর হবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে কোম্পানির মূল্য অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি এবং মঙ্গল গ্রহে মানব উপনিবেশ গড়ে তোলার মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য রয়েছে। এসব শর্ত হিসাবের বাইরে রাখলে তিনি এখনো ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা থেকে দূরেই আছেন।

তবে স্পেসএক্সে তার মালিকানার যে তথ্য কোম্পানিটি প্রকাশ করেছে, তার ভিত্তিতে টেসলা ও স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারের মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের মূল্যের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। এমনটাই বলছে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ইলন মাস্কের মোট সম্পদ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এই তালিকায় আছেন গুগলের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন।

আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১৩ বিলিয়ন ডলারের লোকসান করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় আকারের বিনিয়োগকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইলন মাস্ক তার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সাধারণ বেতনের পরিবর্তে শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন। এসব পুরস্কার নির্দিষ্ট উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। উদাহরণ হিসেবে টেসলায় ১০ লাখ মানবসদৃশ রোবট সরবরাহের মতো লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার পারিশ্রমিক অন্য নির্বাহীদের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে।

শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে। ওই দিন শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে উঠলে, মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ ও মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র সংক্রান্ত শর্তসাপেক্ষ শেয়ার বাদ দিয়েও ইলন মাস্ক কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা পেতে পারেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ