নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ৯ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় গাজীপুরে একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সকালে কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে তাকে।
গ্রেপ্তার আবদুর রহিমের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলায়।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশের হাওর থেকে গরু আনতে যায় শিশুটি। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আবদুর রহিম। ফিরতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে শিশুটিকে খুঁজতে ওই গাছের নিচে যান তার মা। তাকে দেখে রহিম দৌড়ে পালান।
পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগ আছে, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন মাতবর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। তারা নির্যাতিত শিশুটির পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দেওয়াসহ ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখান। কিন্তু মেয়েটির পরিবার এতে রাজি হয়নি।
পরে গত সোমবার দুপুরে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন দুপুরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে আবদুর রহিমকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেন।
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে চাইলে গ্রামের মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্কর মীমাংসার কথা বলে বাধা দেন। লোকলজ্জার ভয়ে আমি তখন থানা-পুলিশকে জানাইনি। আসামি রহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্করের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সোমবার সকাল থেকে ওই দুই ব্যক্তি এলাকা ছেড়েছেন।
আজ সকালে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি মাকসুদ মুঠোফোনে বলেন, মামলায় অভিযুক্ত আবদুর রহিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
ওসি বলেন, শিশুটি ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গ্রাম্য মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্কর যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

