হযরত শাহজালাল মাজারের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসfব নেই: ডিসি সারওয়ার আলম

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ২০:৩৪

দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ ছুটে আসেন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে। কেউ মানত করেন, কেউ দেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল। কিন্তু এসব দান থেকে বছরে কত আয় হয়, কোথায় ব্যয় হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর কখনও জানতে পারেন না সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই পন্থা পরিহার করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হিসাব রাখতে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি মাজারের আয় আদায় করেন এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খরচ করেন। এটি একটি পাবলিক সম্পত্তি। ইচ্ছে মতো খরচ করা যাবে না। তাই এখন থেকে আয়-ব্যয়ের রেকর্ড রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থায়নে মাজারে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। ৫ কোটি টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ দেওয়ার কথা। কিন্তু মাজার কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে পারছে না। পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে তিন কোটি দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বাকি দুই কোটি টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ দেওয়ার কথা কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা কমিশন থেকে মাজারের আয়-ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আমরা দেখলাম, আয় এবং ব্যয়ের কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই।’

শাহজালাল মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান দান-খয়রাতের অর্থ ভোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, কারণ তা প্রতি মাসে সমান হয় না। যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে মাজারের বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। আমরা যে খাচ্ছি না তা নয়। আমরা খাচ্ছি, মাজারের খরচও বহন করছি। এভাবেই এতো বছর ধরে চলে আসছে।’

তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন আয়-ব্যয়ের কিছু নথিপত্র নিয়েছে, যা পরে জেলা প্রশাসকের কাছে গেছে। ১০ জুনের বৈঠকে জেলা প্রশাসক মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব বলেন, শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার সিলেটবাসীর পরিচয়ের একটি বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। তিনি বলেন, ‘মানুষ মাজারে লাখো টাকা দান করেন, গরু-ছাগল মানত করেন। শরিয়ত অনুযায়ী এই দানের প্রকৃত হকদার গরিব ও এতিমরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিত্তশালীরা এটি ভোগ করছেন, যা শরিয়ত সম্মত নয়।’

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই স্বচ্ছতার পক্ষে। সচেতন মহল যদি ডিসিকে সহযোগিতা করেন, তবে এই উদ্যোগ সফল হবে।’

একই দিন দরগা মসজিদের মুফতি হাসানও জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

ডিসি মো. সারওয়ার আলম জানান, মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসাকে একটি সমন্বিত ‘ইসলামিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানকার মাদ্রাসাটি যেন উচ্চমানের হয় এবং শিক্ষার্থীরা আমল ও ইলমের দিক থেকে সেরা হতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এদিকে মাজারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক উদ্যোগী হওয়ায় সিলেটে  অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এপি