ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে কোনো সমস্যা হবে না: গভর্নর

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ২৩:২৩

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পাশাপাশি ১০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাতের আস্থার সংকট, টাকা না পাওয়া ও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের জন্য ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট (জরুরি তারল্যসহায়তা), যা দেওয়ার প্রয়োজন, তা আমরা দেব।’

গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। ব্যাংকটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পাঁচজনের পরিচালনা পর্ষদ ছিল। এর মধ্যে কিছু অভিযোগের কারণে একজনকে বদলানো হয়। ঈদের আগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। যেহেতু একটি সিস্টেমিক (বড়) ব্যাংকে ন্যূনতম পাঁচজন সদস্য ছাড়া বোর্ড চলে না, তাই আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে নিয়োগ দিতে হয়েছে।’

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর ছিল ৯৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নির্ধারিত সীমা হলো ৯২। আমরা ম্যানেজমেন্টকে এটি কমিয়ে আনতে বলেছি।’

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে চেয়ারম্যান নিয়োগের পর তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিরই নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদেও ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি থেকে অনেক গ্রাহক টাকা তুলে নেন। এতে তারল্যসংকটে পড়ে ব্যাংকটির এটিএম সেবা এবং অনেক শাখা থেকে টাকা উত্তোলনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

 
ইত্তেফাক/এমএস