নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর উৎসে কর-এ বড় ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উলটো চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে কর ছাড়ের ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও এটা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
বাজেট পেশের পরদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেল। সবমিলিয়ে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উেস কর আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল খুচরা বাজারে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডালের বাজারেও একই চিত্র। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্য দুটির দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও ৫২ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই দিনের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে তা ৫২ থেকে ৬০ বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাদা খোলা আটার দামও। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে তা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব পণ্য আগের কেনা। পুরোনো দামে কেনা পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর ছাড়ের সুবিধা বাজারে প্রতিফলিত হবে না।
তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাজেটে কেবল কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। নতুন আমদানিকৃত পণ্য বাজারে আসলে আশা করি, দাম কমে যাবে। এদিকে চাল, ডাল, আটার দাম বাড়লেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গাসহ বেশির ভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির বাজারেও স্বস্তির চিত্র রয়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।
তবে মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৭০ টাকা, রুই, কাতলা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা , পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কই ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার আগামী বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পণ্য আমদানিতে কর কমিয়েছে। কিন্তু বাজারে এখনো কোনো পণ্যের দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম কমতে সময় লাগবে। অথচ, যদি বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা বলা হতো, তাহলে ঠিকই সঙ্গে সঙ্গে সেই পণ্যের দাম বেড়ে যেত। ক্রেতাদের দাবি, সরকার যে ৬০টি পণ্যের উেস কর কমিয়েছে, তার সুফল যেন দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। এজন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

