বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫

কক্সবাজার শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী গ্রাম কৃষিনির্ভর ফসল উৎপাদনে অনন্য এলাকা। কালের পরিক্রমায় সেই গ্রামের পাতলী খাল ভরাট আর সরু হয়ে গেছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করবেন।

দীর্ঘ ৪৮ বছর আগে বাবা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে জমির চাষাবাদ বাড়াতে খনন করেছিলেন ‘পাতলী খাল’। এলাকার সত্তোর্ধ ব্যক্তি আলী হোসেন, মোহাম্দ ইউছুপ, জাফর আলম, ওবায়দুল হকসহ অনেকে বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনায়নে প্রত্যন্তাঞ্চলের প্রতি ইঞ্চি মাটি চাষাবাদ যোগ্য করা দরকার সেটা বুঝেছিলেন মেজর জিয়া। তাই পিএমখালীর বিস্তৃর্ণ এলাকার জমি চাষাবাদ আনুকূল্য করতে সাড়ে চারদশক আগে খনন করেছিলেন পাতলীখাল। বাবার সেই ‘কৃষক বান্ধব’ রক্তের দায় শোধ করে পিতার স্মৃতি জাগরণ করতে বাবার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবেই অধিষ্ঠিত হচ্ছেন আমাদের প্রিয় তারেক জিয়া।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নিলে তাকে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধনে পিএমখালীতে নিয়ে আসবেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হতে যাচ্ছে এবার।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পিএমখালীসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের পাশাপাশি সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা এবং রাতে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে পাতলী খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছও রোপণ করেন, যা এখনো সেই ঘটনার স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। খালটির পানির সুবিধায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসে এবং এলাকায় কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয়।

তবে দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটিতে পলি জমে নাব্যতা কমে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে খালটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের উদ্যোগে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখনন করা হয়। তখন খালের প্রস্থ ৫০ ফুট এবং গভীরতা ১৫ ফুট করা হলে পুনরায় পানিপ্রবাহ শুরু হয়। এর ফলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কৃষক উপকৃত হন এবং ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আবারও চাষাবাদ শুরু হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি আবারও ভরাট হতে থাকে।

বর্তমান সরকারের বৃহৎ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৯ মে পুনরায় খনন কাজের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশে খননযন্ত্র ও শ্রমিকেরা কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, খালের কিছু অংশ এখনো অবৈধ দখলের মধ্যে রয়েছে। অনেক জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ ও বর্জ্য ফেলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারা পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা জিয়াউর রহমানের খাল খননের ঘটনা শুধু পূর্বসূরিদের কাছ থেকে শুনেছেন। এবার তারই সন্তান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এসে সেই খাল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আনন্দিত।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন ও পথসভায় অংশ নেবেন। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এ ছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চকরিয়ায় একটি রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করে রাতে কক্সবাজারের একটি সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

ইত্তেফাক/এসজেএস