ওয়াশিংটন-তেহরান সম্ভাব্য চুক্তিতে ভেন্যু হতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আয়োজন করতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুই পক্ষ সম্মত হলে যেকোনো মুহূর্তে জেনেভায় এই জমকালো স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে সুইস সরকার।

সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের উপযুক্ত স্থান হিসেবে তারা ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডের নাম প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে তারা শুরু থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে এবং চলমান বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

সুইস প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড। এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে আরও সুসংহত করা এবং চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার স্থায়ী পথ তৈরি করা।

এর আগে একাধিক শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্র জানিয়েছিল, রোববার অথবা ফ্রান্সে শুরু হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে জেনেভায় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকটি সরাসরি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং এটি মূলত দুই দেশের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থিতিশীল করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তি তৈরির একটি প্রাথমিক আইনি কাঠামো হতে পারে।

ফলশ্রুতিতে, এই মুহূর্তে গোটা আন্তর্জাতিক মহলের গভীর নজর এখন জেনেভার দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম সংকট নিরসনে সেখানে কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা যায় কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

ইত্তেফাক/আইএ