রাতে হামলা করতে পারে ইরান, ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ২২:৫৬

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ফের হিজবুল্লাহ ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর জেরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের ওপর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি দৈনিক টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ধারণা করছে, ইরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষিতে আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।

আইডিএফ জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণ উভয় ধরনের পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা তারা সহ্য করবে না।

পরিস্থিতি বিবেচনায় হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে জনসমাগম সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বড় ধরনের জমায়েতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে—বাইরে সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরোয়া স্থানে ৪০০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্কুল চালু রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

এদিকে একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েকজন নিহত এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর আগেও বৈরুতে হামলার পর ইরান ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যাতে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈরুতের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির সময় এই ধরনের হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত।

তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইত্তেফাক/এসএ