শেখ হাসিনাসহ তিনজনের সাজা বৃদ্ধির আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি সাত মাসেও

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১১:১৮

জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা নিয়ে করা আপিলের সাত মাস পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আপিলও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধানও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সময়সীমা নির্দেশনামূলক হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলেও আপিলের কার্যকারিতা বহাল থাকে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান।

পরবর্তীতে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা আরও বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আপিলের শুনানি শেষ হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ৬০ দিনের ডাইরেক্টরি বিধান আছে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হয়, তবুও আপিলটা এনফ্রেকচুয়াস হয়ে যাবে না। মানে আপিল বহাল থাকবে। আর মেন্ডেটরি হয় ওইটা, যেটাতে কনসিকোয়েন্সটা বহাল থাকে।

প্রসিকিউশন বলছে, প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় আপিল শুনানি থেমে আছে। একই অবস্থায় জুলাই অভ্যুত্থানে চাঁনখারপুলে হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর মামলাও।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শুনানির জন্য কোনো উদ্যোগ নিইনি। উদ্যোগ নিইনি এ কারণে যে, আমরা এখন পর্যন্ত আপিলটা শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারিনি।

এদিকে, জুলাই হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এসব মামলার রায় চলতি মাসের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসজে