দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, ঘুরেফিরে সব দোষ হয় রাজনীতিবিদের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ২৩:৩৯

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, দুর্নীতি বিভিন্ন স্তরে হলেও শেষ পর্যন্ত দায় রাজনীতিবিদদের ওপরই বর্তায়, কারণ চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হয়।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুদকের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে তিনি দুদকের জন্য অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন।

আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দুর্নীতি সব জায়গায় হয়। ঘুরেফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদের হয়। কিন্তু যতগুলো ফাইল স্বাক্ষর হয়, লাস্টে রাজনীতিবিদকে স্বাক্ষর করতে হয়। এ জন্য সব দোষ তার।’

দুদকের নেতৃত্ব নিয়োগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দুদক প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদককে শক্তিশালী করতে সংশোধনী এনে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে জাতীয় সংসদ সেই অধ্যাদেশ অনুমোদন না করায় আগের আইন পুনর্বহাল হয়েছে। ওই আইনেও সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে।

সার্চ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। সম্প্রতি সেই প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ফলে এখন সার্চ কমিটি গঠন এবং নতুন কমিশন নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই কমিশন গঠনের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিঠিপত্রও দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সহযোগিতা সময়মতো পাওয়া যায়নি। এখন সার্চ কমিটি গঠন করে দুদক পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো আপনারা মনে করে নিয়েছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল। চিঠি দিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতাটা পাইনি। গতকালকে কেবল সই করে দিয়েছেন। এখন সার্চ কমিটি গঠিত হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনও গঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন বিল সংসদে পাস হলে তখন আরও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে।’

এর আগে আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, বিভিন্ন জরিপে দুর্নীতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যেসব পেশার নাম আসে, তার মধ্যে রাজনীতিবিদ ও আমলারা শীর্ষে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দুদককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন আলোচিত দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংশোধনী অধ্যাদেশ পরবর্তীতে আইনে পরিণত না হওয়ায় দুদককে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বর্তমান সরকারও দুদককে শক্তিশালী করার বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দুদকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পছন্দনির্ভরতা দেখা যায় এবং প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিও পর্যাপ্ত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদককে আরও কার্যকর করতে আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে সংসদে তা অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ববর্তী আইনই বহাল থাকে।

গত ৩ মার্চ থেকে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারের পদ শূন্য রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/এনএন