দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অবসর ও বদলিজনিত কারণে এ সংকট তৈরি হলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া উপজেলার অনেক শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাজপুর জেলা শহরে বসবাস করায় শহরের কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির জন্য বিভিন্ন ধরনের সুপারিশের চাপও সামলাতে হচ্ছে শিক্ষা অফিসকে।
কাহারোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের ৩২টি পদের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের আরও ৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলার কাজিকাটনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রায় এক বছর আগে অবসরে গেছেন। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, একই পদমর্যাদার সহকর্মীদের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে অনেক সময় তা মেনে নিতে অনীহা দেখা যায়। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।
বলরামপুর গ্রামের অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
একই গ্রামের আরেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পাঠদান করতে পারছেন না। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কাহারোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম জিলানী বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি অথবা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

