যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত আইনি পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স গ্রহণ করা ব্যতিরেকে কোনোভাবেই মোটরযান মেরামত কারখানা স্থাপন কিংবা পরিচালনা করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ।
সম্প্রতি বিআরটিএর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৬৪ (১) এর সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যক্তি কিংবা বেসরকারি সংস্থাকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও সরকারি ফি প্রদান করে লাইসেন্স গ্রহণ না করে মোটরযান মেরামত কারখানা চালানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ আরও উল্লেখ করেছে যে ঢাকা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্স গ্রহণে আগ্রহী যেকোনো ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ এর বিধি ১৫৭ এর উপবিধি-(১) অনুসারে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) অথবা সহকারী পরিচালকের (ইঞ্জিনিয়ারিং) কার্যালয়ে নির্ধারিত ফরম-৪০ এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যা বিআরটিএর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যাবে।
এ ছাড়া এই লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য বিধি-১৫৬ এর উপবিধি-(৫) অনুযায়ী মূল আবেদনের সঙ্গে বেশ কিছু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি নথিপত্র এবং প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে বলে বিআরটিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে কারখানায় মোটরযান মেরামতের কাজে নিয়োজিত অটোমোবাইল কর্মীদের সংশ্লিষ্ট কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব দক্ষতার প্রমাণপত্র এবং মোটরযান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ওই কারখানায় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জামের যথাযথ ব্যবস্থা থাকার বাস্তব প্রমাণ।
একই সঙ্গে লাইসেন্স প্রত্যাশী কারখানায় অন্তত পাঁচটি যানবাহন বা গাড়ি নিরাপদে রাখার মতো পর্যাপ্ত নিজস্ব জায়গার সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারী মালিক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন সার্টিফিকেট, হালনাগাদ আয়কর পরিশোধ সনদের সত্যায়িত কপি, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক সুপারিশপত্র এবং আবেদনকারীর আর্থিক সচ্ছলতার বৈধ সনদপত্র আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

