আর্জেন্টিনার খেলা দেখার সময় অস্থিরতা যেভাবে সামলাবেন

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১৯:১৮

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনায় ও আবেগে এখন মেতে আছে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক। সময়ের পার্থক্যের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রাত জেগে দেখতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের। পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। আর যদি হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচ, তবে তো ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। বুধবার (১৭ তারিখ) সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

এই প্রিয় দলের খেলা দেখার সময় অনেকের ক্ষেত্রে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই উত্তেজনা কখনো কখনো অতিরিক্ত চাপ, অস্থিরতা বা উদ্বেগে পরিণত হয়-যাকে অনেকে ফ্যান অ্যাংজাইটি বলে থাকেন। বিশেষ করে প্রিয় দল খেললে হার-জিতের চিন্তা, লাইভ স্কোরের টান, এবং শেষ মুহূর্তের ড্রামা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অনুভূতি স্বাভাবিক হলেও, নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এটি খেলা উপভোগের আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।

ফ্যান অ্যাংজাইটি কেন হয়?
খেলা দেখার সময় আমরা অনেক সময় আবেগের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়ি। প্রিয় দলের সঙ্গে নিজের পরিচয় মিশিয়ে ফেলি। ফলে দল হারলে সেটাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মতো মনে হতে পারে। আবার লাইভ ম্যাচে প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চিত হওয়ায় মস্তিষ্ক ক্রমাগত চাপের মধ্যে থাকে। এই কারণেই হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অস্থির লাগা বা টেনশন অনুভব করা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

লাইভ স্কোর ও অতিরিক্ত স্ক্রলিং এড়িয়ে চলুন
অনেকেই একসঙ্গে টিভি, মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচ ট্র্যাক করেন। এতে তথ্যের চাপ বেড়ে গিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। বিশেষ করে কমেন্ট সেকশনের নেতিবাচক আলোচনা বা ট্রল মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই খেলা দেখার সময় একটিমাত্র সোর্সে মনোযোগ রাখাই ভালো।

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন
অস্থিরতা শুরু হলে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া। গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ধীরে ছাড়ুন। এই পদ্ধতি শরীরের নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে এবং তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। ম্যাচের টানটান মুহূর্তে কয়েকবার এই অনুশীলন করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।

একা না দেখে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে দেখুন
বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়, আবার হতাশাও একা বহন করতে হয় না। একসঙ্গে চিৎকার, হাসি বা আলোচনা ম্যাচের আবেগকে স্বাস্থ্যকরভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।

শরীরকে স্বাভাবিক রাখুন
খেলা দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ক্যাফেইন বেশি খাওয়া বা খালি পেটে থাকা অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন, হালকা খাবার খান এবং মাঝে মাঝে শরীর নড়াচড়া করুন। শরীর স্বাভাবিক থাকলে মনও তুলনামূলক স্থির থাকে।

ফলাফল মেনে নিন
ফ্যান অ্যাংজাইটির বড় কারণ হলো ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। বাস্তবে খেলায় জয়-পরাজয় অনিশ্চিত। এই বিষয়টি মেনে নিলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। আপনি খেলা উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, এই বাস্তবতা মনে রাখা জরুরি।

এদিকে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় হারাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে পরদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

ঘুম কম হওয়ার ফলে ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস খুব সাধারণ সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকাপ উপভোগ করা যেমন আনন্দের, তেমনি শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। সামান্য পরিকল্পনা ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে রাত জাগার পরের ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফলে প্রিয় খেলা উপভোগের পাশাপাশি পরের দিনও রাখা যাবে শরীর ও মনকে ফিট ও সতেজ।

ইত্তেফাক/এনটিএম