ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাস ১১ দিন পর নিজের আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) তিনি কলকাতা হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি নির্বাচনী মামলা দায়ের করেন।
একই দিনে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে সিআইডির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার নিজেই হাইকোর্টে গিয়ে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন এই তৃণমূল নেত্রী।
মামলা দায়েরের সময় মমতার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা। সেই হারের বিরুদ্ধেও তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন, যা পাঁচ বছরেও সুরাহা হয়নি।
এদিকে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য ও ‘ডিজে বাজানোর’ অভিযোগে জেরার মুখে পড়েছেন কেন্দ্রীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব সরকার নামের এক ব্যক্তির করা মামলার ভিত্তিতে আজ দুপুর ১২টায় কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজির হন তিনি।
সিআইডি কর্মকর্তারা টানা সাড়ে ছয় ঘণ্টা অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কর্মকর্তারা তার সেই বিতর্কিত বক্তব্যের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। এর আগে গত দুই দিনও নিয়োগ দুর্নীতি ও বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় ইডি ও সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি।

