ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত দিয়ে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য রেখা বা নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে রাখছে, যা চরম মানবিক বিপর্যয় ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিএসএফ রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এই মানুষদের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিএসএফের ২১টি এমন চেষ্টা ব্যর্থ করেছে, যেখানে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর পাঁয়তারা করা হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং আধার কার্ড থাকার পরেও অনেককে আটক করে সীমান্তে পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তে আটকে পড়া পরিবারগুলো ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক ক্ষেত্রে শুকনো খাবারটুকুও বিএসএফের পক্ষ থেকে অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই ও হস্তান্তরের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া থাকলেও, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা পাশ কাটিয়ে এককভাবে মানুষকে সীমান্তের মাঝখানে ঠেলে দিচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে তাদের মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে নিষ্ঠুরভাবে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারকে এই বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও জাতীয়তা যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। তাদের অবস্থান হলো, প্রত্যাবাসন হতে হবে যথাযথ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিভিন্ন মন্তব্যে অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত ও বহিষ্কারের যে নীতি প্রচার করা হয়েছে, তার প্রতিফলন এই সীমান্তে দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব থেকে কাউকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পরিপন্থী।
সংস্থাটি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বহিষ্কার বন্ধ করে, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আইনজীবীর সহায়তা ও আপিলের সুযোগ রাখে এবং শিশুদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করে। সংস্থাটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কখনোই মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক মানবাধিকারের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।

