সংসদের চেয়ারে এমপিদের হাত কেটে যাচ্ছে: জয়নুল আবদিন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ২৩:২২

জাতীয় সংসদ কক্ষের চেয়ারগুলো অত্যন্ত ভারী এবং সেগুলোর পিন খোলা থাকায় সংসদ সদস্যদের হাত কেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই সমস্যার কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সংসদ কক্ষের ৩০০টিরও বেশি চেয়ারের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। চেয়ারগুলোর পিন বের হয়ে থাকায় অনেক সংসদ সদস্যের হাত কেটে যাচ্ছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তার পেছনের অংশে হাত কেটে ফেলেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। চেয়ারগুলোর পেছনের অংশে তিন ইঞ্চি পরিমাণ ফাঁকা থাকায় বসার ক্ষেত্রেও চরম অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংসদ সদস্যদের শারীরিক অসুস্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, ১৬ বছর পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কারও কোমরে ব্যথা, কারও হাতে বা পিঠে ব্যথা। এই চেয়ারগুলোতে এমনকি তরুণ সংসদ সদস্যরাও ঠিকমতো বসতে পারছেন না।’ এই ফাঁকা অংশগুলো দ্রুত পূরণের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান।

চেয়ারের ওজন ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ফারুক বলেন, ১৯৯১ সালে যখন তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, তখনো এই চেয়ারগুলোর ওজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘চেয়ারগুলো এত ভারী করার পেছনে হয়তো ইতিহাস ছিল যেন কেউ এগুলো তুলে নিক্ষেপ করতে না পারে। মনে হয় যেন লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে এত বেশি ওজনের চেয়ার ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একই সময়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় স্পিকারের প্রতি মাথা ঝোঁকানোর রীতি নিয়ে জামায়াত দলীয় এক এমপির তোলা প্রশ্নের বিষয়ে কথা বলেন। এই প্রথাটি ইসলামি শরিয়াহ বা জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে বিষয়ে স্পিকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন তিনি।

জয়নুল আবদিন ফারুকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝোঁকানোর রীতির বিষয়ে তিনি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে চেয়ারের যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/এনএন