বোরো মৌসুম শেষ না হতেই চালের দাম বাড়ছে

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩২

বোরো মৌসুম শেষ না হতেই বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। রাজধানীর বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধানের মৌসুমে চালের দামের এ বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। 

চালের দামের বৃদ্ধিতে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলারদের দায়ী করছেন। অন্যদিকে মিলারদের দাবি, মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় কৃষকের কাছে এখন ধান নেই। সব ধান চলে গেছে মজুতদারদের হাতে। তারা বেশি দামে ধান বিক্রি করছে। যার প্রভাব পড়েছে চালের দামে। গতকাল বৃহষ্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর, তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ও কাওরান বাজারে খোঁজ নিয়ে চালের দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।

সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা। আর মাসখানেকের ব্যবধানে মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিতে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজারদর নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। সংস্থাটির এই প্রতিবেদনেও চালের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

টিসিবির তথ্য বলছে, গতকাল বাজারে প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট মানভেদে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, মাঝারিমানের চাল পাইজাম/আটাশ ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৫২ থেকে ৬০ টাকায় হয়, যা এক মাস আগে যথাক্রমে ৫২ থেকে ৬৮ টাকা ও ৪৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তুরাগ এলাকার একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে আগের চেয়ে বেশি দরে চাল কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরাতে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই।

চালের দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়ে দেশের চালের বাজারের অন্যতম মোকাম রায়গঞ্জের (সিরাজগঞ্জ) অন্তিম সেমি অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সরু চালের দাম প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, এখন তো কৃষকের কাছে ধান নেই। অন্যদিকে সরকারও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান, চাল কিনছে। ফলে ধানের দাম বেশি। যার প্রভাব পড়েছে চালেও দামেও।

এদিকে বাজারে চালের দাম বাড়লেও ও সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবি তাদের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার তথ্য জানালেও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মক্তাদির সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজারে চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি জানান, কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। কিন্তু বাজারে সেই দাম কার্যকর হয়নি এবং পরবর্তীকালে তা কমে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মানের চালের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দুই থেকে চার টাকার মূল্য পার্থক্য থাকে। নতুন ও পুরোনো চালের মধ্যেও দাম কিছুটা ভিন্ন হয়। নতুন চালের ফলন ভালো হলে তার দাম তুলনামূলক কম থাকে।

এ ধরনের এক-দুই টাকার ওঠানামা বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের হাতে চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুত রয়েছে। ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তাত্ক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। এ সময় খাদ্যপ্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে, যা নির্ধারিত আপত্কালীন মজুতের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে চলমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি মজুত প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চালের বাজার নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ইত্তেফাক/এএম