যুদ্ধ নিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ থাকায় চিন পিং ও পুতিনের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৯

ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প জানান, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করেছে। তিনি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, সি সংঘাত নিরসনে সহায়তাকারী ভূমিকা পালন করেছেন এবং ইরানের কাছে বড় ধরনের সমরাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর মতো পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছেন। ট্রাম্পের মতে, চীন ও রাশিয়া চাইলে পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি কঠিন করে তুলতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন মিত্রদের প্রতি তার পূর্বের সমালোচনামূলক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা না করায় তিনি এর আগে জাপানসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় মিত্র দেশের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। মিত্রদের তুলনায় চীন ও রাশিয়ার এই ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকাকে তিনি অনেক বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তারা এই সংকটে সতর্ক ভূমিকা পালন করেছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় সেটিকে ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের প্রশংসার বিপরীতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান শুরু থেকেই অপরিবর্তিত ছিল এবং তারা যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের সময় বেইজিং তেহরানকে সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী পণ্য সরবরাহ করেছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের তেল কিনেছে। তারপরও ট্রাম্প সি চিন পিংয়ের ভূমিকাকে যুদ্ধ নিরসনে একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন। রুশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, রাশিয়া আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিল যে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে।

ইত্তেফাক/এএম