আঞ্চলিক অস্থিরতায় ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর ফলে আগে থেকে জরিমানা মওকুফ সুবিধা পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও দর্শনার্থীরা আগামী ৯ জুলাই (২০২৬) পর্যন্ত কোনো আর্থিক দণ্ড ছাড়াই নিজ দেশে ফেরা অথবা ভিসা নবায়নের সুযোগ পাবেন।
আমিরাত সরকারের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) এক ঘোষণায় নতুন এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ছাড় চলবে ৯ জুলাই পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের ভিসা নিয়মিতকরণ অথবা দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে নতুন করে কোনো আবেদন বা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে না।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে আমিরাতের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফলে যাদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়েছিল, যারা ভিজিট ভিসায় ছিলেন এবং যাদের প্রস্থানের অনুমতি ছিল—এমন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটিতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এসব আটকে পড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণজনিত জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিল।
আইসিপি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আগের সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই আটকে পড়া বিদেশিদের মধ্যে যারা আমিরাতে বৈধভাবে থাকতে চান, তাদের এই এক মাসের মধ্যে রেসিডেন্সি বা ভিসার মেয়াদ নবায়ন করতে হবে। আর যারা ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তারা বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন।
আগামী ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা নবায়ন বা দেশত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা এবং দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আমিরাতে কর্মরত ও আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

