চাঁদাবাজি বন্ধ হলেই মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে: জামায়াত আমির

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০০

দেশে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের রয়েল পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াতের বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেট কোনোটিই টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা জনগণ জানে। চাঁদাবাজি কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।” রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম ও চাঁদাবাজি থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই দলের রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাজারে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সরকার বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর কমালেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না। কারণ বাজারের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাতে। তিনি বলেন, “কিছু গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। তারা এই সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।”

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের উচিত সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করা। অন্যায়, দুর্নীতি ও পেশিশক্তির আধিপত্য রুখতে গণমাধ্যমের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সমাজের অসঙ্গতি ও রাজনৈতিক দলের ভুলত্রুটিগুলো সাহসের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কে তার রূপকল্প তুলে ধরে বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। সেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান বিচার পাবে। রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”

ইত্তেফাক/এএম