ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তরের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানান, বৃষ্টির কারণে ওই চার জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে অন্তত তিন দিন স্থায়ী স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কোথাও কোথাও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগসহ উজানের ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে, যা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আগামী পাঁচ দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যদিও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে, এরপর কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী তিন দিনে তা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও ওঠানামা করছে। আগামী দিনগুলোতে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

