ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়নি দাবি পুলিশ সুপারের।
রোববার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
নিহত যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৬)। সে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের মির্জা ইসকান্দার হায়দার এর ছেলে এবং ফরিদপুর আইন কলেজের ছাত্র।
নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার বিকেলে প্রান্তকে তার বাড়ির নিকট থেকে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের একটি দল আটক করে। এ সময় তার কাছে মাদক ছিল জানিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে। সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয় পরিবারকে।
নিহতের মা মির্জা খাদিজা আক্তার নিপার অভিযোগ, প্রান্তকে বেধড়ক মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
মৃত ইশতিয়াক মির্জা প্রান্ত ফরিদপুর সুগার মিলে ক্যাজুয়াল স্কেলম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর ল’ কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।
প্রান্তের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার মেঝ চাচা ছিলেন মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, যিনি করোনাকালে মৃত্যুবরণ করেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রান্তের বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। ডিবি পুলিশ মাদকসহ প্রান্তকে আটক করে নিয়ে আসে। সকালে অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। শারীরিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন তার শরীর নেই। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে।

