দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বিনিয়োগ যেন বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
রোববার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদনপ্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে অনুমোদনপ্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদনপ্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়ার চেয়ে ভিন্ন।’
কারখানা পরিদর্শনব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের যানবাহনব্যবস্থা ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে চায় সরকার। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব আছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয়। বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।’
জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

