পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের (টিআর, কাবিখা ও কাবিটা) বরাদ্দ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম বাবুল চন্দ্র রায়। নিজ কার্যালয়ে বসে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে হিসাব কষে কমিশনের টাকা নির্ধারণ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের দপ্তরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কয়েকজন সদস্য এবং প্রকল্পের সভাপতিরা অবস্থান করছেন। সেখানে ক্যালকুলেটর চেপে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে কমিশনের হিসাব করছেন ওই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে এক ইউপি সদস্য তার প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ জানালে পিআইও হিসাব করে বলেন, ‘দুই লাখ ৫৬ হাজার টাকার ১৫ শতাংশ হলে ৩৮ হাজার টাকা আসে।’
এ সময় কমিশনের অঙ্ক শুনে ওই ইউপি সদস্য কিছুটা কমিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘স্যার, একটু কম করে নেন। ৩৮ হাজার টাকা দিলে কাজের কোনো লাভই থাকে না।’ এর উত্তরে পিআইওকে বলতে শোনা যায়, মেম্বারদের কোনো দিনই লাভ হয় না। এত দিন ধরে তিনি পিআইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু কোনো মেম্বারকে কখনো লাভের কথা বলতে শোনেননি।
ভিডিওর আরেক অংশে আরও কয়েকটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৪ হাজার ও ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় উপস্থিত এক ইউপি সদস্য কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে কমিশনের টাকা কমানোর অনুরোধ জানান।
তবে ঘুষ বা কমিশন বাণিজ্যের এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কথোপকথন প্রসঙ্গে তার দাবি, ওই ব্যক্তিরা কাজ না করেই বিল তুলে নিতে এসেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই এসব কথা হয়েছে, এখানে কমিশন নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই তিনি বিষয়টি প্রথম জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা হবে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

