দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন 'বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ চট্টগ্রাম' জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ২০ জুন (শনিবার) চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সামিটে তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত 'দক্ষ তরুণ, উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি' শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও আইসিটি সাংবাদিক রাহিতুল ইসলাম। সেমিনারে তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিবর্তন নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
সেমিনারে নিজের বক্তব্যে তরুণদের সাহসের প্রশংসা করে রাহিতুল ইসলাম বলেন,’বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে একটি অদৃশ্য বিপ্লব ঘটেছে, আর এই বিপ্লবটি ঘটিয়েছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের হাজারো তরুণ সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায়, মেধা ও শ্রমে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার এবং সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। এই তরুণদের যদি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে আরেকটু নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা করা যায়, তবে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন,’ আজ যখন আমি এই বিপিও সামিটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আপনাদের দিকে তাকাই, আমি শুধু একদল তরুণকে দেখি না; আমি দেখি বাংলাদেশের অর্থনীতির একেকটি পাওয়ারহাউজ। আমি সবসময় একটি কথা বলি—বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে একটি 'অদৃশ্য বিপ্লব' ঘটে গেছে। এই বিপ্লব কোনো অস্ত্র বা যুদ্ধ দিয়ে হয়নি, এই বিপ্লব হয়েছে আপনাদের হাতের কিবোর্ড, মাউস আর মেধার জোরে। আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ছেলে বা মেয়ে, যার হয়তো একসময় ঢাকা শহরে এসে একটা সাধারণ চাকরি পাওয়ারও সামর্থ্য ছিল না, সে আজ ঘরে বসে গ্লোবাল মার্কেটে আমেরিকার বা ইউরোপের বড় বড় কোম্পানির কাজ করছে। কেউ ফ্রিল্যান্সিং করছে, কেউ আইটি স্টার্টআপ দাঁড় করাচ্ছে, কেউ বা বিপিও খাতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছে। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল বিপ্লবটি আপনারা ঘটিয়েছেন সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায়, নিজেদের জেদে।
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও কথাসাহিত্যের মাধ্যমে রাহিতুল ইসলাম বাংলাদেশের আইসিটি খাতের বিকাশ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ফ্রিল্যান্সিং ও বিপিও খাতের রূপান্তরের গল্পগুলো দেশ ও বিদেশের পাঠকদের সামনে তুলে ধরছেন। তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে অজপাড়াগাঁ থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় স্বাবলম্বী হওয়া তরুণদের অনুপ্রেরণামূলক বাস্তব কাহিনী। প্রযুক্তি আর মানবিক গল্পের মিশেলে লেখা তাঁর বইগুলো পড়ে দেশের হাজার হাজার তরুণ নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখছে এবং নিজেদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাচ্ছে।
সামিটের আয়োজকরা জানান, এই বিশেষ সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দক্ষতায় উদ্বুদ্ধ করা, যেন তারা বৈশ্বিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রামের স্থানীয় তরুণ, শিক্ষার্থী এবং আইটি খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই সামিটটি একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিয়ে তরুণরা সরাসরি খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা শোনার সুযোগ পান।

