তিন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ২০:৫২

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিকে দেওয়া এক রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যপর্বে বিল গেটস এ কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গত ১০ জুন ওভারসাইট কমিটিকে বিল গেটস এ জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) তার সে সাক্ষ্যের একটি অনুলিপি প্রকাশ করেছে কমিটি।

সাক্ষ্যে গেটস জানান, দুই রুশ নারী—ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়ও স্বীকার করেন।

তবে গেটস দাবি করেন, তিনি কখনো এপস্টিনের কোনো যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। যদিও এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাতের সময় তিনি অজান্তেই ভুক্তভোগীদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।

এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে গেটস বলেন, তার সঙ্গে সময় কাটানো ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, জনহিতকর কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যেই মূলত এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।

সাক্ষ্যে গেটস ইঙ্গিত দেন, তার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর বিষয়ে জানার পর এপস্টিন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন। গেটস আরও দাবি করেন, ২০১১ সালে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তার চিকিৎসা-উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিল গেটস এ তথ্য জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন, এপস্টিন তার ওই সম্পর্কের বিষয়েও জানতেন। এর আগে তিনি কংগ্রেসকে বলেছিলেন, এপস্টিন শুধু ‘আমরা যে দুটি সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি’ সেগুলোর কথাই জানতেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কংগ্রেসের সদস্যরা গেটসকে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এপস্টিনের নিজেই নিজের কাছে পাঠানো একটি ই–মেইল দেখান। সেখানে গেটসের প্রসঙ্গে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের নাম উল্লেখ করা ছিল।

এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ওই ই–মেইলের সংস্করণগুলোতে গেটসের নাম কালো কালি দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।

তবে গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টিন তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল কার্যকরভাবে করতে পারেননি। এছাড়া এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে তার বিরুদ্ধে যে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে, সেটিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো এক সময় তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার কখনো কোনো যৌনবাহিত রোগ শনাক্ত হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে এপস্টিন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি প্রকাশের পর গেটস ও এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব নথিতে তাদের যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এলেও, গেটসের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস