জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত বিবেচনা করতে পারে সরকার: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১৬:৫৮

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ‘অগ্রাধিকার (থ্রাস্ট) খাত’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদে ফেনী-২ আসনের বিএনপির সদস্য জয়নাল আবদিন-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কম শ্রম ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি এবং মাঝারি আকারের জাহাজের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই ব্লু ইকোনমি ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ খাতকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক।

তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি উচ্চ মূলধননির্ভর খাত। তাই এ শিল্পের বিকাশে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম জানান, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে ঋণ, যেমন চার শতাংশ সুদে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শিপইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, এ খাতের বিকাশে পশ্চাৎ-সংযোগ (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) শিল্পের উন্নয়নও জরুরি। বর্তমানে দেশে নির্মিত জাহাজে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। তবে মেরিন কেবল, মেরিন পেইন্ট, ফাইবারগ্লাস ও স্টিল প্লেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশেই উৎপাদন করা গেলে মূল্য সংযোজনের হার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

মন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ডগুলোর জন্য শুল্ক প্রণোদনা ও কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ১২ হাজার টন ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাতাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওয়েল্ডিং, জাহাজ নকশা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং নৌ-স্থাপত্য বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব জাহাজের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে।

শেখ রবিউল আলম আশা প্রকাশ করেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিসহ বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা গেলে এ খাত থেকে বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করতে সক্ষম হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস