বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের পারস্য উপসাগর থেকে আটকে পড়া জাহাজ সরানোর অভিযান স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইরানের হামলার পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টার দিকে আগস্ট মাসের সরবরাহের জন্য ব্রেন্টের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৪ ডলার ৮৯ সেন্টে উঠে যায়। এর আগে দাম নেমে এসেছিল ৭২ ডলার ৪৮ সেন্টে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর তেলের দাম বেশ খানিকটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমানে ব্রেন্টের দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি রয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। আজ শুক্রবার লেনদেন শুরুর পর জাপানের নিক্কেই-২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি, হংকংয়ের হ্যাংসেং এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। টোকিও ও সিউলের প্রধান সূচকগুলো সকালেই ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তির পর এই পথে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছিল। ফলে জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন হামলায় সেই আশায় আবার ঘনঘটা নেমে এসেছে।
মেরিনট্রাফিক ও কেপলারের তথ্য অনুসারে, গত বুধবার প্রণালিটি দিয়ে ৭০টি জাহাজ পারাপার হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এবং চলতি বছরের ১ মার্চের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডানদিকে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা একটি বস্তু’ আঘাত করে।
নিউইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলাটি ইরানই চালিয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

