ইসরায়েলি বাহিনীকে শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।
শুক্রবার (২৬ জুন) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে লেবাননের সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির শর্তও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফাতেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
এরপরও দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রায়ই হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় তাদের সেনারা প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানোর স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
নাঈম কাসেম বলেন, ‘ইসরায়েল কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অজুহাতে লেবাননে অবস্থান করছে না; বরং দেশটির ভূখণ্ড দখল ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই তারা সেখানে রয়েছে। লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব দেশটির জাতীয় সেনাবাহিনীর এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সেখানে থাকার কোনো বৈধতা নেই।’
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি মানে উভয় পক্ষের সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়া। এমন কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে কিন্তু লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া থাকবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে হিজবুল্লাহ প্রয়োজনীয় জবাব দেবে।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেক করে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ‘ইরান কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।’
লেবাননের কর্তৃপক্ষের উদ্দেমে নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলি-মার্কিন প্রকল্প ভেঙে দিয়েছি এবং একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। লেবানন কর্তৃপক্ষ দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি নিতে পারে না। সরকার যদি লেবাননের সার্বভৌমত্বের পথে অগ্রসর হয়, তবে প্রতিরোধ শক্তি সরকারের পাশেই থাকবে।’
ভাষণে লেবাননের কর্তৃপক্ষকে শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ বাস্তবায়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইসরাইলের নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করুন।’
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

