দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে চীন। এর অংশ হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একজন সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে এনপিসির স্থায়ী কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বহিষ্কৃত ছয় সেনা কর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। গত বছরের অক্টোবর মাসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
এছাড়া ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন।
শুধু সামরিক বাহিনী নয়, বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই পদক্ষেপের আওতায় পড়েছেন। বহিষ্কৃত অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জিনজিয়াংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং একজন জ্যেষ্ঠ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভেতর থেকে দুর্নীতি নির্মূল এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন।
সাম্প্রতিক এই গণবহিষ্কার সেই অভিযানের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি)

