২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি কেপ ভার্দে। রাউন্ড অফ-৩২তে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে কেপ ভার্দের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস।
ব্রাজিলের শীর্ষ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডে এক ব্রাজিলীয় নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে মেন্দেসের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ।
তবে এখন পর্যন্ত ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
অভিযোগের সূত্রপাত গত ২৭ মার্চ। সে সময় ফিফা সিরিজ টুর্নামেন্ট খেলতে অকল্যান্ডে অবস্থান করছিল কেপ ভার্দে।
অভিযোগকারী ব্রাজিলীয় নারী স্থানীয় ফুটবল ফেডারেশনের নিয়োগে কেপ ভার্দের প্রতিনিধিদলের দোভাষী ও সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দলের সঙ্গে একই হোটেলে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চিলির বিপক্ষে ম্যাচের পর ওই নারীকে একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। তিনি সেটিকে কাজের অংশ বলে মনে করেছিলেন।
পরে বুঝতে পারেন, সেটি ছিল দলের একটি অনানুষ্ঠানিক সামাজিক আয়োজন। এরপর তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর দরজায় কড়া নেড়ে মেন্দেস কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের সমর্থনে ওই নারী তার শরীরে থাকা আঘাতের ছবি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
তিনি যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন, যেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রকাশিত চিকিৎসা প্রতিবেদনে গলা, ঠোঁট, স্তন এবং যৌনাঙ্গে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে, যা অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড পুলিশ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দেশটির গোপনীয়তা আইনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণের চূড়ান্ত ফল পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মেন্দেসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে কি না। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগকারী নারী ও তার স্বামী ফিফা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
তাদের দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেন্দেসকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হোক।
তদন্ত শেষে যদি পুলিশ মনে করে যে, সংগৃহীত প্রমাণ অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট, তাহলে মামলাটি নিউজিল্যান্ডের আদালতে যাবে। দেশটির আইনে যৌন সহিংসতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

