জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ২০:২৯

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ও মাস্টারমাইন্ড নিয়ে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত উঠে এসেছে। রোববার (২৮ জুৃন) অধিবেশন চলাকালে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

অধিবেশনে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে তারেক রহমানকে কৃতিত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান নিজেই এর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সফল নেতৃত্বের কথা স্বীকার করেছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেই আজ দেশ এই জায়গায় এসেছে, তাই বাজেট নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে একক কোনো মাস্টারমাইন্ড বা মাস্টারমাইন্ডের ধারণায় তিনি বিশ্বাস করেন না। ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি এই অবস্থানে অনড় আছেন জানিয়ে বলেন, ওই সময় যাদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তাদের সবাইকে জাতি অন্তর থেকে সম্মান ও ভালোবাসার চোখে দেখে। তাদের এই অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলমকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেই ঘটনার পরপরই তিনিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন যে, আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই। তিনি তার বক্তব্যে পুরো ক্রেডিট বা কৃতিত্ব দেশের তরুণ সমাজ এবং ১৮ কোটি জনগণের ওপর ন্যস্ত করেন।

সংসদ অধিবেশনে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ও কৃতিত্বের দাবি নিয়ে দুই দলের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের চিত্রই তুলে ধরেছে। এক পক্ষ যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা ও পরিকল্পনার কথা বলছে, অন্য পক্ষ সেখানে গণ-অভ্যুত্থানকে একটি গণ-আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কৃতিত্ব সাধারণ ছাত্র-জনতার হাতেই রাখতে চাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএম