বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় যা কিছু দরকার চীন সরকার তা করবে বলে দাবি করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাত কোটি মানুষের জন্য পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই অর্থবছরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নামে হোক, আর অন্য যে কোনো নামে হোক, আমরা তা বাস্তবায়ন করবোই। চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। চীনের রাষ্ট্রপতির পানি সম্পদের ওপর ব্যাপক জ্ঞান রয়েছে। তিনি এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, তারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে রয়েছেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় যা কিছু দরকার চীন সরকার তা করবে।
রোববার (২৮ জুন) সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে না, দাবি করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তার মতে, ভালো কাজের মাধ্যমে সরকার প্রতিশোধ নেবে। মন্ত্রী বলেন, ‘২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন আরেকটা প্রতিশোধ।’
পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি বলেন, তিস্তা, পদ্মায়, মেঘনা, যমুনায়, ব্রহ্মপুত্রসহ সারা দেশে ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। তারা বাজেট জানে না, বোঝে না। তারা বাঁচতে চায়! আমি যখন কথা বলছি, সেই মুহূর্তেও ২,৩, ৪ কিলোমিটার ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
বক্তব্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আবার একসঙ্গে জেলে যাবেন কি না, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে এ প্রশ্ন রেখেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর এ্যানি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলন করে আজকে সবাই সংসদে এসেছি। ঐক্য খুব জরুরি। ঐক্যের ওপর আমাদের ভর করতে হবে। ঐক্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অতীতে কারাজীবনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সামনে উপস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা কাশিমপুর জেলখানার কথা তো মনে পড়ে, একসঙ্গেই তো ছিলাম, ভিন্ন তো ছিলাম না। নামাজ পড়েছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি, আলোচনা করেছি এবং ফ্যাসিস্ট থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কৌশল নির্ধারণ করেছি। আবার যাব?’
এরপর মন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ! আবার আমাদের যেতে (জেলে) হবে না। কারণ এ দেশের মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে আছে। এ দেশের মানুষ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে ছিল, এ দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছিল।’

