ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত যুবকের দাফন শেষ হতে না হতেই ফের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়েছে বিবাদমান দুই পক্ষ। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার আসরের নামাজের পর উপজেলার ধরন্তী মাঠে রোববার সংঘটিত সংঘর্ষে নিহত যুবক খাদিম মিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মাঠের পাশের গোরস্তানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই দুই পক্ষ পুনরায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ২০টিরও বেশি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।’
এর আগে, গত রোববার (২৮ জুন) বিকেলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। জানা যায়, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ৯ মাস আগে ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত উপকরণ (চটা-পাটি) বাবদ পাঁচ লাখ টাকার মালপত্র বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন পার হলেও পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না মোশারফ।
রোববার বিকেলে কালিকচ্ছ শহীদ মিনার এলাকায় পাওনাদার মোশারফের সঙ্গে আশিক ও আলালের দেখা হলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান খাদিম মিয়া নামের এক যুবক। ওই হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই সোমবার নিহতের দাফন শেষে নতুন করে এই সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

