স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১৬:৩৬

ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবজাল হোসাইন মৃধা বলেন, মঙ্গলবার আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতে বলেছি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীর সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হোক।

এর আগে দুই দিনের রিমান্ড শেষে যাহের আলভীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। তিনি আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।

এর আগে ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন যাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে ২১ জুন তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, গত ৪ জুন মামলার আরেক আসামি আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ সকালে মিরপুরের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আলভীর স্ত্রী ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

ইত্তেফাক/এমএসআর