পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্কের মধ্যে ‘অ্যান্টি-গুন্ডা বিল’ পাস হয়েছে। বিলটির নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাকটিভিটিজ বিল, ২০২৬’। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ১৭৬ জন বিধায়কের সমর্থন আর ৪১ জনের বিরোধিতায় বিলটি পাস হয়।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য শুধু মানুষকে জেলে পোরা নয়। রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণ-অশান্তি দমন করাই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ও পাস হয়েছে।
নতুন বিলে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’-এর সংজ্ঞা অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল সন্দেহের বশেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তিকে বিচার ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারবেন। একই সাথে যারা এ ধরনের ‘গুন্ডা’ বা অপরাধীদের আশ্রয় কিংবা সাহায্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এই বিলে ‘গুন্ডা’ বলতে সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধীকে বোঝানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন অভ্যাসগত ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য, তোলাবাজ, জমি দখলকারী এবং অবৈধ খনি ও প্রাকৃতিক সম্পদ পাচারকারীরা। এ ছাড়া অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও এই সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হবেন।
পুলিশকে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।
দ্বিতীয় বিলের মাধ্যমে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও গণ-অশান্তির সময় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে। শুধু সরাসরি জড়িত নয়, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও উসকানিদাতাদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা যাবে। টাকা না দিলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হতে পারে।
বিরোধিতা ও উদ্বেগ
নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধীরা এই বিলকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইন রাজনৈতিক বিরোধী, সামাজিক কর্মী ও আন্দোলনকারীদের দমনে ব্যবহার করা হতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই দুটি বিলকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর আইন বলে অভিহিত করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিরোধীরা বলছেন, রাস্তায় প্রতিবাদ করলেও তাকে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ বলে চিহ্নিত করে বিনা বিচারে আটকে রাখা যাবে। ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকার অবশ্য দাবি করছে, আইন মেনে চলা সাধারণ নাগরিকদের কোনো ভয়ের কারণ নেই। এই আইন শুধু অপরাধী চক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক-সামাজিক উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

