ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আলোচনা কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ইসরায়েলের কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আউন এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লেবাননের যুদ্ধ ও বিদেশি প্রভাবের যুগ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। অধিকাংশ লেবানিজ এই পথকে সমর্থন করেন, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, যারা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের অধিকার রাখেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের আলোচনা শেষে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক) চুক্তিতে সই করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি ‘দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে বাস্তবসম্মতভাবে বেরিয়ে আসার পথ’ তৈরি করবে।
এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের করা এই চুক্তি নিয়ে লেবাননে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে লেবানন। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার কিছু অংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকেই।
তবে প্রেসিডেন্ট আউন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির ধারাগুলো লেবাননের অধিকার ও মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সেই অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করেন, তাদের এই বিষয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকেও সম্মান করা উচিত।’
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যে ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ হয়েছে, সেটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ নির্ধারণের জন্য একটি নির্দেশনামূলক কাঠামো।
লেবাননের বেসরকারি টেলিভিশন এলবিসিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাম বলেন, ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ শব্দটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা এমন একটি নির্দেশনামূলক কাঠামোর কথা বলছি, যা আলোচনার পথ নির্ধারণ করবে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে উৎসাহী নই। কিন্তু দুটি যুদ্ধের পর, যেখানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই বাস্তবতা আমাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’

