১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

  • প্রাথমিকে ৩৬ হাজার ২৩৫ প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু
  • ৩৮ হাজার ৪৪৩ সহকারী শিক্ষক নিয়োগে শিগিগর বিজ্ঞপ্তি আসছে
  • এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-প্রভাষক পদে ৭০ হাজার নিয়োগ পাবেন
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০০

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেছেন, এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫ প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ফোনে আদালতের রায় জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত চাহিদা দিতে বলেছেন। দ্রুতই পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হবে, যাতে পিএসসি বিশেষভাবে এই নিয়োগ দিতে পারে। এই নিয়োগের পর নতুন করে ৩৬ হাজার ২৩৫টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। আগে থেকে শূন্য থাকাসহ সবমিলিয়ে ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। এসব পদেও শিগিগর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রভাষক পদে ৭০ হাজার জন নিয়োগ পাবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেসকো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র‍্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র‍্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এবং পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডের। এ জন্য এ পদে পদোন্নতির ফাইল পিএসসিতে পাঠাতে হয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে।

আর সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ। বর্তমানে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজারের বেশি। এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ট্রেড ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ। এতদিন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নিয়ে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দিচ্ছে না বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। এসএসসি পাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হরে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। আমাদের কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যখন আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে আপিল বিভাগের রায়। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি মামলায় রাষ্ট্রের করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মামলাটি সরকারের পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণেও দ্রুত অগ্রগতি হবে।

শিক্ষকরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন: এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী দিনে শিক্ষকরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে করতে হবে।

পাঁচ লাখ টাকায় জিপিএ ফাইভ বিক্রির খবর আর শুনবেন না: শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঁচ লাখ টাকায় জিপিএ ফাইভ বিক্রির খবর আর শুনবেন না, সব পালিয়ে গেছে। এখন আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা অনেক এলার্ট। তাদের মনস্তাত্বিক পরিবর্তন হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মামলায় গত পরশুদিন স্টে অর্ডার পেয়েছি ৩ মাসের। প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা আগামী দুই সপ্তাহে শুরু হবে।

ইত্তেফাক/এএম