ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর থেকেই শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সহযোগীদের দাফন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত ৪০ দিনের যুদ্ধের শুরুর দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি।
মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর আজ ভোরেই এই নেতার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে আসা হয়, যেখানে দুই দিনব্যাপী সাধারণ জনগণের শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা যায়, আজ থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে তার দাফন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তেহরানে খামেনির মরদেহ আনা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ইরানের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাসভবনে হামলায় ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। এটি দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় দাফন কার্যক্রম হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই বিলম্ব তার মৃত্যুর পর ইরানের সম্মুখীন হওয়া অসাধারণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
খামেনির মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই দাফন বিলম্বিত হয়েছে। খামেনির মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
খামেনির মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল জানিয়ে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোহাম্মদ ওমর বলেন, এতে কোনো ধরনের এমবামিং করা হয়নি, কারণ ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক এমবামিং নিষিদ্ধ।
তিনি বলেন, শিয়া আইন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফনে বিলম্ব এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি দেয়। ইরানের ফরেনসিক মর্গে এমনিতেই মরদেহ কয়েক মাস পর্যন্ত রাখা হয়। তাই চার মাস সংরক্ষণ করে রাখাটা অস্বাভাবিক নয়।
এদিকে আজ প্রথম দিনেই মরহুম নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এই শোকযাত্রায় শামিল হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে এসে পৌঁছেছেন।
এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী শনিবার ও রবিবার মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার তেহরানে মূল জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে এই মহান নেতার দাফন সম্পন্ন হবে।

