বিভ্রান্তি দূর করল ইউজিসি: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ২২৬ কোটি টাকা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৮

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য মোট ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি দেশের কিছু গণমাধ্যমে "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি" মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি এই স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করল।

বিভ্রান্তি দূর করে ইউজিসির ব্যাখ্যা

ইউজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনগুলো অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে গবেষণায় অর্থায়নের সামগ্রিক চিত্রটি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অহেতুক সংশয় তৈরি করতে পারে বলেই কমিশন বিষয়টি পরিষ্কার করেছে।

কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যে গবেষণা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।

গবেষণা অর্থায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের দ্বৈততা বা পুনরাবৃত্তি এড়াতে সরকার এবার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং গবেষক-বান্ধব করেছে। ইউজিসি আশ্বস্ত করেছে যে, এই নতুন প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, গবেষণার অগ্রাধিকার বা বিষয়ের বৈচিত্র্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

গত ২ জুলাই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ইউজিসি তাদের গবেষণা পরিকল্পনা, উপ-খাতভিত্তিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং বাজেটের প্রাক্কলন যত দ্রুত সম্ভব পাঠাতে অনুরোধ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিশন খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠানো ওই চিঠিতে বাজেট তৈরির সময় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত গবেষণা উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে জ্যেষ্ঠ গবেষকদের পাশাপাশি উদীয়মান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া গবেষণা প্রকল্প প্রস্তুত করার সময় সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে বলেছে ইউজিসি।

ইত্তেফাক/এএম