পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, তিন আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৩

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক কন্যাশিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে বারুইপুর এলাকা থেকে পালানোর সময় আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। প্রভাস মণ্ডলকে জেরা করেই পুলিশ মূল আসামি আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দারের খোঁজ পায়।

গত শনিবার বিকেলে সূর্যপুর হাট এলাকার ধপধপি থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার পথে শিশুটিকে চার তরুণ অপহরণ করে। পরিবারের অভিযোগের পরও পুলিশ প্রথমে শিশুর কোনো সন্ধান পায়নি। রোববার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়। 

খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর মরদেহ সড়কে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। রেলপথও অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে বাকি দুজনকে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশের তরফে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং শমীক লাহিড়ীর নেতৃত্বে আরেকটি দলও শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বিক্ষোভের মধ্যে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে মারধর করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনায় তদন্ত চলছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

ইত্তেফাক/এবিএস