দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারধরের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢামেক কর্মচারীর মৃত্যু

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৯

রাজধানীর বংশালে স্ত্রীর ‘টাকা চুরি করে মাদক সেবনের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির একপর্যায়ে একটি লোহার রড ঢুকে যায় ৪০ বছর বয়সী স্বামী সুমন মিয়ার বুকে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিমউদ্দীন রোডের জমিদার গলির আনারস মসজিদের পাশের চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন সুমনকে। 

নিহত সুমন মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারি ছিলেন। তার বাড়ি হবিগঞ্জের কমলগঞ্জে। সুমনের বাবার নাম মো. নবী মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ছোট স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সঙ্গে নাজিমুদ্দিন রোডের বাসায় থাকতেন। বড় স্ত্রী ডলি বেগম দুই ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে হোসেনি দালান এলাকায় বসবাস করেন।

সুমনকে হাসপাতালে আনার পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, জমিদার গলির ওই বাসায় তিনি এক মেয়ে নিয়ে থাকেন। সোমবার রাতে সুমন নাসিমার বাসায় আসেন। বাসা থেকে নাসিমার ১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়। রাতে সুমনকে তিনি বাথরুমে মাদক সেবন করতেও দেখেন। এ নিয়ে আজ সকালে তাদের ঝগড়া হয়। এ সময় নাসিমাকে প্রচণ্ড মারধর করেন সুমন। তার পেটেও কামড় দেন। একপর্যায়ে লোহার একটি ধারালো বস্তু দিয়ে নাসিমাকে আঘাত করেন। এরপর দুজনের হাতাহাতির সময় ধারালো বস্তুটি সুমনের বুকে বিঁধে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে সুমনকে দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে।

এ বিষয়ে নাসিমা বলেন, ঝগড়ার এক পর্যায়ে সুমন মারধর করে, পেটে কামড় দেয়। হাতাহাতির সময় একটি লোহার ধারালো রড নিয়ে টানাহেঁচড়ার মধ্যে সেইটা সুমনের বুকে ঢুকে যায়।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

নিহতের বুকের বাম পাশে একটি জখম রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করছে বংশাল থানা পুলিশ।

বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মাহফুজুল হক বলেন, আমরা একটি হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আছেন, আমিও যাচ্ছি।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন সুমনের দুই স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে থাকা একটি ধারালো কিছু তার বুকে ঢুকে যায়। 

এসময় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম