বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সফরের মূল বিষয়টি নিশ্চিত হলেও জনসভার সুনির্দিষ্ট স্থান ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মঙ্গলবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সফরের সার্বিক রূপরেখা ও প্রটোকল নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের মেগা প্রকল্পগুলো এখন দ্রুত আলোর মুখ দেখবে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ আরও ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা সৈকতকে যুক্ত করার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, সেটিও এই সফরের মাধ্যমে নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দলীয়ভাবে সফরটি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। জানা গেছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিশেষ সাংগঠনিক মতবিনিময় করবেন।
সফরের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আগামী ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসছেন বলে আমরা দলীয়ভাবে জানতে পেরেছি। তার এই সফরকে সফল করতে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ এর অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলে একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সবশেষ বরিশালে এসেছিলেন তারেক রহমান। সেদিন দুপুরে তিনি নগরীর বান্দ রোডের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম বরিশাল সফর।

