মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী জেলায় ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার নিচু এলাকা ছাড়াও কালিশুরী, বগা, কালাইয়া, ধুলিয়া, দাসপাড়া, চন্দ্রদ্বীপ ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে গেছে। অনেক গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাছের ঘের ও পুকুরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক চাষি মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করছেন।
স্থানীয় মৎস্যচাষি ও মৃত্তিকা অ্যাগ্রোর মালিক এম এ হান্নান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার একাধিক পুকুরের পানি উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। তাই চারপাশে নেট জাল লাগানো হয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাছ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ এম পারভেজ বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মাছচাষি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে উঁচু করে নেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকার আমন ধানের বীজতলা ও শরৎকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে বীজতলা পচে নষ্ট হতে পারে, যা আগামী আমন মৌসুমে উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।
শৌলা চর এলাকার কৃষক ওলি উল্লাহ বলেন, তিনি ১২ শতক জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলাই পানির নিচে চলে গেছে। আরও কয়েকদিন এ অবস্থা থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, উপজেলায় ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে আউশ এবং ৫৮০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা রয়েছে। এর বেশিরভাগই পানিতে ডুবে থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চলতি মাসের ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

