ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবি ও প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানটি দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
পোস্টে আব্দুল্লাহ আল জাবের উল্লেখ করেন, শাহাদাত বরণের আগে শহীদ ওসমান হাদি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে জীবদ্দশায় সেই কাজটি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি তিনি।
প্রতিষ্ঠানটিকে সবসময় ‘জনতার আমানত’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো উল্লেখ করে জাবের লেখেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়েছে। এই কারণেই শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর বিগত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল, যার কিছু এখনো চলমান রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করায় নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
জাবের আরও লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদিকে আল্লাহ যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে এবং তাঁর ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষাপটে সব ধরনের দলিল-দস্তাবেজ বিবেচনা করে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
দায়িত্ব পালনকালে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জাবেরের ভাষ্য, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক হিসাব-নিকাশ প্রসঙ্গে সাবেক এই চেয়ারম্যান জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর থেকে ‘ঢাকা-৮’ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে ওই অংশের হিসাব এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের অন্যান্য সব আর্থিক হিসাব দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে আব্দুল্লাহ আল জাবের শহীদ ওসমান হাদির দেখানো ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একইসঙ্গে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

