আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় হারের পর রেফারিং নিয়ে মিসরের পক্ষ থেকে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কলিনা বলেন, ফুটবলে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা স্বাভাবিক বিষয়। তবে প্রমাণ ছাড়া তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।
কলিনা বলেন,রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সব সময়ই ফুটবলের অংশ থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ রেফারিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে।
শেষ ষোলোর ওই ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিসর। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে রেফারির ওপর চাপ থাকতে পারে। একই সঙ্গে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
মিসরের দাবি ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অকারণে বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতে, গোলের আগে ফাউলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটির কোনো ভিত্তি ছিল না। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করে তারা।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে কলিনা বলেন, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সঠিকভাবেই জিকোর গোল বাতিলের সুপারিশ করেছিল। কারণ, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন।
কলিনা বলেন, ফাউল মানেই ফাউল। মাঠে রেফারি সেটি না দেখলেও, আক্রমণের ধারাবাহিকতায় যদি ফাউল শনাক্ত হয়, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সালাহকে ঘিরে পেনাল্টির দাবিও খারিজ করে দেন তিনি। কলিনার ব্যাখ্যা, রেফারি ও ভিএআর উভয়ের মূল্যায়নেই সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষ ছিল স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ, যা ফাউলের পর্যায়ে পড়ে না।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের পায়ে চাপ দিলে সেটি ফাউল। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার আগে বলে স্পর্শ করে পরে স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শে এলে সেটিকে ফাউল বলা যায় না।
কলিনা স্বীকার করেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থেকেই যায়। তবে তার দাবি, পুরো টুর্নামেন্টে ভিএআরের নীতিমালা যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে ফিফা সন্তুষ্ট।
সূত্র: রয়টার্স

